এপার ব্রেকিং

x

ওপার ব্রেকিং

x

-হেসে খেলে সিরিজ মুঠোয়-

বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৮ | ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

-হেসে খেলে সিরিজ মুঠোয়-
লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস

এপার ওপার ডেস্ক: দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও লিটন দাসের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ মুঠোবন্দী করলো বাংলাদেশ। গতকাল নগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে হেসে খেলে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ব্রেন্ডন টেইলর, সিকান্দর রাজা ও শেন উইলিয়ামসের ব্যাটে ভর করে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ওপেনার লিটন ও ইমরুলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৪৪.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম ম্যাচের পর গতকাল চট্টগ্রামে এ জয়ে ২-০ তে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগারদের এটা টানা তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়। এর আগে ২০১৪ সালে ৫ ম্যাচের সিরিজে অতিথিদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল তারা। পরের বছর ৩ ম্যাচের সিরিজ জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। আগামীকাল শুক্রবার একই ভেন্যুতে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে দু’দল।
চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ে সিরিজকে ঘিরে এর আগে তেমন উন্মাদনা চোখে না পড়লেও গতকাল মাঠে ম্যাচ গড়ানোর সাথে সাথেই যেন পাল্টে যায় সাগরিকা ভেন্যু। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরু থেকেই ঢল নামতে শুরু করে স্টেডিয়ামে। মাঠে আসা দর্শকদের প্রত্যাশার পুরোটাই পূর্ণ করেছে স্বাগতিক ক্রিকেটাররা। ম্যাচ শেষে সিরিজ জয়ের আনন্দে নিয়ে ফিরতে ফেরেছে দর্শকরা। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস শুরু থেকে রানের ফুলঝুড়ি ছোটাতে থাকেন মাঠে। তামিমের অনুপস্থিতিটা বুঝতেই দেননি দুই ওপেনার। নগরীর দর্শকদের রানের আনন্দে ভাসিয়ে দলকে ধীরে ধীরে কাংখিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। ৯.৩ ওভারে দলীয় অর্ধশতকের পর ১৫.৪ ওভারেই ১০০ রান ছুঁয়ে যান এ জুটি। এ উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে সব চেষ্টায় করেছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

তবে সফলতা এনে দিতে পারেননি কোন বোলার। শেষ পর্যন্ত ২৪তম ওভারের শেষ বলে লিটন দাসকে ত্রিপানোর তালুবন্দী করে এ জুটি ভাঙেন সিকান্দর রাজা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে গতকাল একমাত্র সফল বোলারও এ রাজা। গতকাল টাইগারাদের তিনটিই উইকেট নিয়েছেন রাজা। দলীয় ১৪৮ রানে ফেরার আগে ৭৭ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৩ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন লিটন। এক ওভার পরেই বিব্রতরক এক রেকর্ড সঙ্গী করে ফিরে যান আগের ম্যাচে ঢাকায় অভিষিক্ত ফজলে মাহমুদ রাব্বি। মিরপুরের পর গতকালও শূন্য রানে ফিরলেন রাব্বি। রাজার বলে টেইলরের হাতে স্ট্যাম্প হয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতে বিব্রতকর এক রেকর্ডের স্বাক্ষী হলেন তিনি। তবে এরপর মুশফিককে সাথে নিয়ে জয়ের পথে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন ইমরুল। দলীয় ২১১ রানে সিকান্দর রাজার তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে নার্ভাজ নাইটিজে শেষ হয় আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইমরুলের ইনিংস। ১১১ বলে ৭টি চারে ৯০ রান করেন তিনি। এরপর মোহাম্মদ মিথুনকে সাথে নিয়ে দলকে জয় এনে দেন মুশফিক। ৫২ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় মুশফিক ৪০ রানে এবং ২১ বলে সমান সংখ্যক চার ও ছক্কায় ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মিথুন।
এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ২৪৬ রানে আটকে রাখে বাংলাদেশ। ব্রেন্ডন টেইলর, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজাদের সৌজন্যে একসময় আরও বড় স্কোরের আশায় ছিল জিম্বাবুয়ে। দেড়শ ছুঁয়েছিল তারা ৩১ ওভারে। কিন্তু পরের সময়টুকুতে যোগ করতে পারেনি আর একশ রানও। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমানদের দারুণ বোলিয়ে বেশিদূর এগুতে পারেনি সফরকারীরা। টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন সাইফ উদ্দিন। নিজের প্রথম দুই ওভারে ছন্দ পাননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজেকে বদলে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আনেন সাইফ উদ্দিনকে। হালকা বেরিয়ে যাওয়া বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মাসাকাদজা। তিনে নামা টেইলরের দারুণ ব্যাটিংয়ে সেই ধাক্কা সামাল দেয় জিম্বাবুয়ে। ওপেনার সিফাস জুয়াওকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়েন টেইলর। ভালো শুরুর পর আবারও উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন জুয়াও। মিরাজকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েছেন ২০ রানে।

জিম্বাবুয়ে ইনিংসের সেরা জুটি পায় এরপরই। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে চারে নামেন শন উইলিয়ামস। তাকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে টেইলর গড়েন ৭৭ রানের জুটি। পেস-স্পিন, সব বোলারকেই দারুণ স্বচ্ছন্দে খেলছিলেন টেইলর। উইলিয়ামস দিচ্ছিলেন সঙ্গ। জিম্বাবুয়ে ছিল পুরো নিয়ন্ত্রণে। সেই লাগাম আলগা করে দেন টেইলর নিজেই। জুটি ভাঙতে মাহমুদউল্লাহকে বোলিংয়ে আনেন মাশরাফি। ইন সাইড আউটে দারুণ চার মারেন টেইলর। পরের বলেই রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ। ৭৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংসে রানে ফেরার স্বস্তি যেমন থাকল, আরও বড় করতে না পারার হতাশাও নিশ্চিত থাকবে টেইলরের। জিম্বাবুয়ে জুটি পেয়েছে এরপরও। পরের দুই জুটিতেই এসেছে ৪১ রান করে। কিন্তু কোনো জুটি টেকেনি লম্বা সময়, কোনো ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত পারেননি দলকে টানতে। শেষে ওঠেনি ঝড়।

সাইফ উদ্দিন, মাশরাফি, মুস্তাফিজের ত্রিমুখী পেস আক্রমণে থমকে যায় জিম্বাবুয়ে। ৪৭ রান করা উইলিয়ামসকে ফেরান সাইফ উদ্দিন। দলে ফেরা এল্টন চিগুম্বুরাকেও এই পেসার মেলতে দেননি ডানা। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ রান করা বিপজ্জনক সিকান্দার রাজাকে থামান মাশরাফি। শেষ ১০ ওভারে জিম্বাবুয়ে তুলতে পারে মাত্র ৫৪ রান। আর শেষ ৫ ওভারে মাত্র ১৯ রান। যাতে ছিল না কোন চার ও ছক্কা। ক্যারিয়ারে আগের চার ওয়ানডে মিলিয়ে ১ উইকেট পাওয়া সাইফ উদ্দিন এই ম্যাচেই নিয়েছেন তিন উইকেট। এছাড়া মাশরাফি, মুস্তাফিজ, মিরাজ ও মাহামুদুল্লাহ নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

Facebook Comments

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
-হেসে খেলে সিরিজ মুঠোয়-
-হেসে খেলে সিরিজ মুঠোয়-